Bds-24 News-এ আপনাকে স্বাগতম। এটি একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা প্রতিদিনের সর্বশেষ ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, লাইফস্টাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করি। দেশ-বিদেশের সব তাজা খবরের আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন।

 খেলা শুরুর আগেই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বড় কেলেঙ্কারি: ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে জাফনা কিংসের মালিক গ্রেপ্তার! পর্দায় উঠছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে...

লপিএল শুরুর আগেই ফিক্সিং, সাকিব-তাসকিনদের মালিক গ্রেপ্তার| আর রেহায় নেই

লপিএল শুরুর আগেই ফিক্সিং, সাকিব-তাসকিনদের মালিক গ্রেপ্তার| আর রেহায় নেই



 খেলা শুরুর আগেই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বড় কেলেঙ্কারি: ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে জাফনা কিংসের মালিক গ্রেপ্তার!

পর্দায় উঠছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (LPL) নতুন আসরের। উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠের লড়াইয়ে নামার কথা রয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জাফনা কিংস এবং গল গ্যালান্টসের। কিন্তু মাঠের বল গড়ানোর আগেই লঙ্কান ক্রিকেটে লেগেছে বড়সড় এক ধাক্কা। গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে জাফনা কিংসের অন্যতম এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট (SIU)।
​খেলার মাঠে নামার পূর্বমুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের এই গ্রেপ্তার হওয়া পুরো টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

উদ্বোধনের আগেই পুলিশের বড় অ্যাকশন

শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পুলিশ প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, খেলাধুলাসংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতি দমনের জন্য গঠিত বিশেষ তদন্ত শাখা টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই জাফনা কিংসের ওই মালিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। দীর্ঘদিনের চলমান একটি গোপন তদন্তের সূত্র ধরেই এই তড়িৎ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লঙ্কান পুলিশ।
​বর্তমানে লঙ্কান পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন ইউনিট (SIU) বিষয়টি নিয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম এখনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে অপরাধের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া মাত্রই তাঁর বিস্তারিত পরিচয় এবং শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে পুলিশের একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সাকিব-তাসকিনদের দলে চরম অস্থিরতা


এবারের আসরে জাফনা কিংসের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের দুই পোস্টার বয় অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবং গতি তারকা তাসকিন আহমেদ। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাঁদেরকে সরাসরি চুক্তিতে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে দলে ভিড়িয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) থেকেও তাঁরা যথারীতি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) সংগ্রহ করে রেখেছেন।

তাসকিন আহমেদের বর্তমান অবস্থান: 

বর্তমানে জিম্বাবুয়েতে জাতীয় দলের হয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও অফিশিয়াল দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় তিনি এখনো লঙ্কান ডেরায় যোগ দিতে পারেননি।

​সাকিব আল হাসানের বর্তমান অবস্থান: 

অন্যদিকে সাকিব আল হাসান খেলছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট মেজর লিগ ক্রিকেটে (MLC)। তিনিও যথাসময়ে লঙ্কায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
​তবে দুই বাংলাদেশি তারকা মাঠে নামার আগেই দলের মূল অভিভাবক তথা মালিক ফিক্সিংয়ের অভিযোগে শ্রীঘরে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দলের ড্রেসিংরুম এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সমূহ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


কঠোর লঙ্কান আইন: অপরাধ প্রমাণে কঠিন সাজা


শ্রীলঙ্কায় ক্রীড়া ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের দুর্নীতি বা কারচুপির বিরুদ্ধে রয়েছে জিরো টলারেন্স নীতি। দেশটিতে পাস হওয়া অত্যন্ত কঠোর ‘প্রিভেনশন অব অফেন্সেস রিলেটিং টু স্পোর্টস অ্যাক্ট’ (Prevention of Offences Relating to Sports Act) বা ক্রীড়া অপরাধ প্রতিরোধ আইনের আওতায় যেকোনো ধরনের ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং বা জুয়াড়িদের সাথে যোগাযোগের তথ্য গোপন করাকে শাস্তিযোগ্য ও অজামিনযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আইনের অধীনে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চড়া অঙ্কের আর্থিক জরিমানাসহ দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে আসামিকে।

বিশ্লেষক ও অতিরিক্ত তথ্য

​লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া এবারই প্রথম নয়। এর আগের আসরগুলোতেও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুয়াড়িদের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ব ক্রিকেটে লঙ্কান বোর্ড (SLC) এবং আইসিসি (ICC) যৌথভাবে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একটি দলের মালিককে গ্রেপ্তারের ঘটনা টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ এবং গ্লোবাল ব্রডকাস্টিংয়ের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।