Bds-24 News-এ আপনাকে স্বাগতম। এটি একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা প্রতিদিনের সর্বশেষ ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, লাইফস্টাইল এবং তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করি। দেশ-বিদেশের সব তাজা খবরের আপডেট সবার আগে পেতে নিয়মিত আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন।

 মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারো বড় ধরনের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের আপেক্ষিক শান্তির অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ...

সানা বিমানবন্দর হামলার প্রতিশোধ: সৌদির আবহা বিমানবন্দরে হুথিদের ড্রোন ও মিসাইল অ্যাটাক

saudi arabia yemen houthi attack



 মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারো বড় ধরনের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের আপেক্ষিক শান্তির অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Abha International Airport) লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির দাবি, সোমবার (১৩ জুলাই) ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বোমাবর্ষণের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই তারা এই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে।

​সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রিয়াদ এবং হুথিদের মধ্যকার চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম তীব্র এবং বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা

হামলার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের আকস্মিক বিমান হামলার জবাব দিতেই হুথিরা একই দিনে আবহা বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইয়েমেনে নিজেদের সামরিক অভিযানের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য করা হয়নি।

​ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারের দাবি, সানার বিমানবন্দরে হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি ইরানি কার্গো বিমানকে সেখানে অবতরণ করতে বাধা দেওয়া, যা হুথিদের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু হুথিরা একে মানবিক ফ্লাইটের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং এর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


বিমান সংস্থাগুলোকে হুথিদের কড়া সতর্কতা

​হামলার পরপরই হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে একটি কঠোর আলটিমেটাম দিয়েছেন।

​"সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর থেকে সৌদি জোটের অবৈধ অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যেন সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করে। আমাদের এই সতর্কবার্তাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।" — ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি

​ইয়াহিয়া সারি আরও যোগ করেন, সৌদি আরবের এই বিমান হামলার মাধ্যমে মূলত দুই পক্ষের মধ্যে চলমান "উত্তেজনা কমানোর যুদ্ধবিরতি মেয়াদের অবসান" ঘটল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইয়েমেনের বেসামরিক মানুষ এবং অবরুদ্ধ রোগীদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করার এই সৌদি ষড়যন্ত্রের কঠিন শাস্তি ও জবাব দেওয়া হবে।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ও উদ্বেগ

​এই আকস্মিক হামলার পর সোমবার বিকেলেই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UN Security Council) একটি জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

​জাতিসংঘের রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণ বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি বলেন:

​ইয়েমেন এবং সামগ্রিকভাবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল এই মুহূর্তে নতুন করে আরেকটি রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ধকল সামলানোর মতো অবস্থায় নেই।

​যুদ্ধের পথ পরিহার করে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে চলমান শান্তি আলোচনায় সব পক্ষকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।


ইয়েমেন গৃহযুদ্ধের পটভূমি (সংক্ষিপ্ত ইতিহাস)

ইয়েমেনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালে। ওই বছর শিয়া মতাদর্শী হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং উত্তর অংশের এক বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর ফলে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদির সরকার ক্ষমতা ছেড়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

​পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনি সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে এবং হুথিদের দমন করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী বহুজাতিক সামরিক জোট গঠিত হয়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও (UAE) অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখন থেকেই এই অঞ্চলে প্রক্সি যুদ্ধ (Proxy War) চলছে, যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক 'সুধা সদন'-এ যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ: রহস্য ও তোলপাড়